Saturday, September 19, 2026
PrimeBulletin

Bangladesh

২০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি না পেলে গ্রীষ্মে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

২০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি না পেলে গ্রীষ্মে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

আগামী গ্রীষ্ম এবং সেচ মৌসুমে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০,১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, সময়মতো এই অর্থ না পেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ লোডশেডিং পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের বিশাল ব্যবধানের কারণে সরকারকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় ১২ টাকা ১৫ পয়সা, অথচ বিক্রি হয় মাত্র ৭ টাকা ৪ পয়সায়। ফলে প্রতি ইউনিটে সরকারের লোকসান গড়ে ৫ টাকা ২৭ পয়সা, যা ভর্তুকি হিসেবে সমন্বয় করা হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এই বিশাল ভর্তুকির পেছনে বিগত সরকারের পরিকল্পনা ও ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বাবদ বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে প্রদত্ত অর্থের বড় ভূমিকা রয়েছে। বিগত ১৫ বছরে শুধুমাত্র ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ১ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে।

ভর্তুকি চেয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ গত ১৬ মার্চ অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, নতুন যুক্ত হওয়া তিনটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখার জন্য মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮,২৪৪ কোটি টাকা প্রয়োজন। এছাড়া ভারত থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানির বিল মেটাতে ৮,২৭৫ কোটি টাকা এবং সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য ৩,৬১৭ কোটি টাকা ভর্তুকি লাগবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব (উন্নয়ন-১) মো. সোলায়মান বলেন, “ভর্তুকি চেয়ে চিঠি পাঠানোর পরও অর্থ বিভাগ থেকে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এই অর্থ না পেলে বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রভাব পড়বে।”

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেইন বলেন, “বিদ্যুৎ খাতে এই বিপুল ভর্তুকির দায় মূলত বিগত সরকারের ভুল পরিকল্পনার। বর্তমান সরকার এখনো দাম বাড়াতে চায় না, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ছাড়া এই ভর্তুকি সামলানো কঠিন।”

সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া দেশের বিদ্যুৎ সেক্টরে আসন্ন গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে লোডশেডিং অনিবার্য হতে পারে।

More